Current Date:June 24, 2021
100 % গ্যারান্টি চুল পড়া বন্ধ হবে

100 % গ্যারান্টি চুল পড়া বন্ধ হবে

আসসালামু আলাইকুম আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আপনি জানেন কি একজন মানুষের স্বাভাবিক দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ টা চুল পরে। আপনার কতগুলো পরে? কখন গুনে দেখেছেন কি? বা কখন ভেবে দেখেছেন কি এটা স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক? আজকে জেনে নিই।  ছেলেদের চুল পড়া খুবই মারাত্মক এবং বিরক্তিকর একটা জিনিস। ছেলেদের চুল পড়ে যাওয়া একটি টেনশন এর ব্যাপার। সুতরাং আজকে আমি যে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি সেটা হল ছেলেদের চুল পড়ার সমস্যা এবং এর চিকিৎসা।

চুল পড়ার কারণঃ

হরমোন জনিত কারণঃ

বিভিন্ন কারনে ছেলেদের চুল পড়ে থাকে তার মধ্যে একটি কোমন কারন হল হরমোন জনিত চুল পড়া। যেটাকে আমরা এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেশিয়া বা প্যাটার্ন হেয়ার লস বলে থাকি।  এবং গবেষনায় দেখা গেছে যে ছেলেদের এই চুল পড়ার সমস্যা গুলোর মধ্যে এই এন্ড্রোজেনেটিক হেয়ার লসে চুল পড়ার % টা সব চেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে যেটা পরিলক্ষিত হয় যে জীবনের যেকোন বয়সে মাথার দুই পাশ থেকে যেটাকে আমরা Bi Temporal rescission বলে থাকি চুল পড়ে যেতে থাকে এবং আমাদের কপাল টা চওড়া হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে মাথার মাঝখান থেকে চুল চলে যেতে থাকে।

এবং এই সমস্যাটি একটা ভয়ানক রকম মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের কাছে রোগীরা আসেন এবং তারা এই রকম সমস্যা থেকে দ্রুত প্রতিকার চেয়ে থাকেন।

চিকিৎসাঃ

এই এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেশিয়া চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক গুলো ধাপ আছে। অনেক ধরনের চিকিৎসায় এখন প্রচলিত আছে। যার মধ্যে প্রথমেই হচ্ছে কিছু মুখে খাওয়ার ঔষুধ । যমন আমরা ফিনেস্টারাইট জাতীয় খাবারের ঔষুধ আমরা প্রেসক্রাইব করে থাকি। যেটা এই হরমোনের কনভার্সন হেয়ার ফলিকলে এটাকে প্রিভেন্ট করে যার ফলে দেখা যায় আমাদের চুল যেটা পরে যাচ্ছিলো বা গজাচ্ছিল না সেই জায়গাটাতে নতুন করে হেয়ার ফলিকল থেকে চুল গজানো শুরু করে।

আরও কিছু ঔষুধ আছে যেমন মিনোক্সিডিল বিভিন্ন মাত্রায় পাওয়া যায়। এটাকে আমরা টপিক্যালি বা লাগানোর স্প্রে বা লোশন হিসেবে ব্যাবহার করে থাকি। এবং সেটা ব্যাবহারের ফলেও এই সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ঔষুধ দিয়ে পরিপূর্ণভাবে বা সঠিকভাবে সমাধান করা যাচ্ছে না। এবং সে ক্ষেত্রে কিছু থেরাপী রিসেন্টলি বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি আমাদের দেশেও দিতে সক্ষম হয়েছি।

তার মধ্যে একটি হচ্ছে PRP therapy যেটা কে platelet reach plasma therapy বলা হয়। যেখানে আমরা রোগীর ব্লাড নিয়ে একটা প্রসিডিউরের মাধ্যমে PRP তৈরি করে সেটাকে আমরা মাথার ত্বকে ইঞ্জেক্ট করে দিয়ে থাকি। এবং এটার একটা শিডিউল আছে সেই শিডিউল ফলো করার মাধ্যমে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগে ভুগতে থাকা রোগীদের কে একটা ভালো সমাধান দিতে পারি।

চুল পড়া

আরও পড়ুনঃ ওজন কমাতে চান কিন্তু শুরু করবেন কিভাবে ?

চুল না গজানোর কারন কিঃ

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ঔষুধ বা PRP বা অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের থেরাপী করেও চুল গজানো যায় না। অর্থাৎ হেয়ার ফলিকল গুলো পারমানেন্টলি lost হয়ে যাওয়ার কারনে। সেখানে কোন চিকিৎসার মাধ্যমেই নতুন ভাবে আর চুল গজায় না।

হেয়ার ট্রান্সপার ঃ

যাদের চুল গজায় না সেই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে খুবই প্রচলিত এবং জনপ্রিয় সেটা হচ্ছে হেয়ার ট্রান্সপার। এক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি চালু আছে।

Follicular unit extraction:

এক্ষেত্রে আমরা যেটা করি মাথার পেছন দিক আমরা ফলিকিউল সংগ্রহ করে এবং সেটাকে আমরা মাথার সামনের অংশে প্লান্ট করে দেই।

আর আরেকটি পদ্ধতি হল যেখানে আমরা মাথার পেছন থেকে একটা স্ট্রিপ সংগ্রহ করে সেখান থেকে আমরা ফলিকিউল আলাদা করে আমরা মাথার সামনের দিকে এটাকে প্ল্যান্ট করি এবং এর মাধ্যমে permanently যাদের চুল চলে গেছে, যাদের কে কোন চিকিৎসার মাধ্যমেই আর চুল ফেরানো যায় নি সেই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা খুব সম্ভাবনাময় সমাধান দিতে পারি।

চুল পড়া

চুল পড়া রোধে কি খাবার খাবেনঃ

চুল পড়া বন্ধ করতে খুব সুষম খাবার খাওয়া উচিৎ। বিশেষ করে যত হলুদ শাক সবজি আছে যেমন গাজর, কুমড়া, পেঁপে, টম্যাটো, স্ট্রবেরি বা শাকের মধ্যে পালং শাক। চুল যেহেতু প্রোটিন সেহেতু ডিম দুধ খাবেন। এবং যেকোন বাদাম জাতীয় খাবার চুলের গ্রোথের জন্য খুব ভালো খাবার।

আরও পড়ুনঃ 6 Reason for BALANCED DIET: সুষম খাদ্য কি? এবং কেন খাবেন?

কি তৈল ব্যবহার করবেনঃ

রসুনের তৈল ব্যবহার করুনঃ

রসুনের তৈল চুলের গোরা মজবুত করে ভিতর থেকে। চুলের হারানো জেল্লাও ফিরে আসে এর সাথে সাথে।

উপকরণঃ

১। ৫ থেকে ৬ কোয়া রসুন।

২। এক বাটি নারিকেল তৈল।

কি ভাবে তৈল বানাবেনঃ

১। একটি পাত্রে নারকেল তৈল নিয়ে তা একেবারে কম আঁচে গরম করুন।

২। তৈল গরম হওয়ার ২ থেকে ৩ মিনিট পর তাতে ৫ থেকে ৬ কোয়া রসুন দিন।

৩। তৈল আরও ৫ থেকে ৬ মিনিট মত ফোটান।

৪। এবার তৈল নামিয়ে ঠাণ্ডা করুন। ঠাণ্ডা হোলে ভালো করে এই তেল দিয়ে চুল মাসাজ করুন ৩০ মিনিট।

৫। ২ ঘণ্টা পর মাথা ধুয়ে নিন ঠাণ্ডা পানিতে। তৈল লাগানোর পরের দিন শ্যাম্পু করুন।

৬। সপ্তাহে একদিন অন্তর তিনদিন ব্যবহার করুন এই হেয়ার ওয়েলটি। একমাসের মধ্যে অতিরিক্ত চুল ওঠা বন্ধ হবে।

৭। নিয়ম করে এই তৈলটি ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন ১০০% গ্যারান্টি।

চুল পড়া

বিস্তারিত জানতেঃ চুল পড়ছে? উপায় কী

তো এই হচ্ছে ছেলেদের চুলের শর্ট চিকিৎসা।

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x