Current Date:June 24, 2021
উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপ এর ঔষুধ সেবনে সতর্ক থাকুন Hypertension

উচ্চ রক্তচাপ কি?

উচ্চ রক্তচাপ হলো এক ধরনের রোগ যখন কোন ব্যাক্তির রক্তের চাপ সব সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তাহলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে। উচ্চ রক্তচাপ হলো ডায়াস্টলিক প্রেসার যদি ৯০ mm of Hg এর বেশি হয় এবং সিস্টোলিক প্রেসার যদি ১৪০ mm Hg বেশি হয় তাহলে সেটাকে প্রেসার বা হাইপারটেনশন ধরে নেওয়া হয়। তবে কেউ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে তা বলার আগে অন্তত পক্ষে ৩ দিন তিনটি ভিন্ন সময়ে ৫ মিনিট বসে থাকার পর রক্তচাপ মাপা উচিত। যদি ৩ বার ই বেশি পাওয়া যায়, তবে তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বলে নিশ্চিত ধরা যায়।

উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপ এর ধরনঃ

১। প্রাইমারি উচ্চ রক্তচাপঃ যা ৯৫% কোন নির্দিষ্ট কারন খুজে পাওয়া যায় না।

২। সেকেন্ডারী উচ্চ রক্তচাপঃ ৫%, সেকেন্ডারী উচ্চ রক্তচাপ সাধারনত হয় মদ পান করলে, অতিরিক্ত মোটা হওয়ার কারনে, কিডনির রোগের কারনে, অনেক ঔষুধের কারনেও রক্তের চাপ বেড়ে যায়।

তবে জন্ম নিয়ন্ত্রন পিল খেলেও বিবাহিত মহিলাদের জন্য হাই প্রেসার হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

রক্তচাপ মাপার পদ্ধতিঃ

১। রোগীকে সোজা করে বসাতে হবে।

২। বাম হাতে প্রেসার মাপা ভালো কারন বাম হাত হার্টের কাছাকাছি থাকে। 

৩। প্রেসার মাপার সময় হাতের নিচে সাপোর্ট রাখতে হবে।

৪। হাতের কনুইয়ের ৩ ইঞ্চি উপরে কাফ বাধতে হবে।

৫। প্রেসার মাপার সময় কথা বলা বা নড়াচড়া করা যাবে না। 

৬। এবং ধীরে ধীরে প্রেসার মাপতে হবে। 

উচ্চ রক্তচাপ blood_pressure_chart

উচ্চ রক্তচাপের কারনঃ

পরিবারে বাবা মা ভাই বোন কারো  যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে তাদের ও হওয়ার সম্ভবনা থাকে। জীবনধারার কারনেও প্রেসার বাড়ে, প্রতিদিন ব্যায়াম না করলে, খাবারের সাথে লবন খেলে, ধুমপান করলে, মদ পান করলে উচ্চ রক্তচাপ হয়।

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষনঃ 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোন লক্ষন থাকে না। আমাদের আশে পাশে অনেক মানুষ আছে,  যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগতেছেন কিন্তু তারা নিজেরা সেটা জানেন না। বেশির ভাগ সময় দেখা যায় অন্য কোনো রোগের জন্য চিকিৎসা নিতে গিয়ে অথবা দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ থেকে কোন একটা জটিলতা বা খারাপ কিছু হবার পরে ধরা পরে। এজন্য একে নীরব ঘাতক বলা হয়ে থাকে।

অনেকের ক্ষেত্রে মাথা ব্যাথা, ঘার ধরা শরীর খারাপ লাগা ইত্যাদি দেখা যায়। এক অর্থে তাদের ভাগ্য ভালো কারন তাদের ক্ষেত্রে প্রথম দিকেই এই রোগটা ধরা পরে। রক্তচাপ অনেক বেশি বেড়ে গেলে আরও কিছু লক্ষন দেখা যেতে পারে, যেমন মাথা ব্যাথা, চোখ ব্যাথা বা ঝাপসা দেখা, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, নাক দিয়ে রক্ত পরা। 

আরো পড়ুন : কিভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখবেন

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসাঃ

রক্তচাপের জন্য ওজন কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়ামকে চিকিৎসার প্রথম ধাপ হিসেবে ধরা হয়। যদিও এই পদ্ধতিগুলো রক্তচাপ কমানোর জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসু, কিন্তু এইগুলি বলার চেয়ে করা প্রকৃতপক্ষে সহজ না। যদিও ধূমপান ছেড়ে দেয়া সরাসরি রক্তচাপ কমায় না কিন্তু রক্তচাপের সাথে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারন এর ফলে উচ্চ রক্তচাপের বেশকিছু উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আসে যেমন স্ট্রোক অথবা হার্ট এটাক। রক্তচাপ সাধারণত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম এবং শারিরীক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যায়। ফল, শাক, সবজি, উচ্চ রক্তচাপ বিশিষ্ট রোগীর রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম রক্ত চলাচলের উন্নতি করে, এবং রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। বাজারে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বহু রকমের ঔষধের ব্যবস্থা রয়েছে যেগুলো এন্টি হাইপারটেনসিভ ড্রাগ নামে পরিচিত যা রক্তচাপ কমিয়ে আনে।

Anti hypertensive drugs:

  1. A: ACE inhibitors: ( Ramipril 5-10 mg daily, Enalapril 20 mg daily etc) and angiotensin -II receptor blocker ( Losartan 50-100 mg daily, Valsartan 40-160 mg daily etc).
  2. B: Beta blockers: (Atenolol 50-100 mg daily, Metoprolol 100-200 mg daily, Bisoprolol 5-10 mg daily etc).
  3. C: Calcium channel blockers:(Amlodipine 5-10 mg daily, Nifedipine 30-90 mg daily).
  4. D: Diuretics: Thiazide diuretics ( Hydrochlorthiazide 12.5-25 mg daily) and potent loop diuretics ( Frusemide 40 mg daily)

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক ঔষুধ থাকলেও রক্তচাপের পরিমাণ, রোগীর বয়স, পাশাপাশি অন্য রোগ, যেমন- ডায়াবেটিস,  কিডনি সমস্যা, মস্তিস্কের রক্তক্ষরন হয়েছে কি না এবং ঔষুধের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করেই চিকিৎসাকেরা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন তাই নিজে নিজেই বাসায় চিকিৎসা করবেন না।

combination of blood pressure treatment

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ নিজে নিজে বাসায় চিকিৎসা করতে যাবেন না, উচ্চ রক্তচাপ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।   

উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ সেবনে সতর্কতাঃ

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর সব ঔষধই সব উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য নয়। একটি ঔষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং এই রোগীর জন্য নির্দেশিত হবে কি না এটা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।Beta blockers ( e.gAtenolol,propanolol) বহুল ব্যবহৃত হলেও যাদের হাপানি আছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। এতে হাপানির তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। আবার Thiazide জাতীয় উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঔষুধগুলো,  যেমন hydrochlorthiazide যাদের গিটে বাত আছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়। ACE inhibitors জাতীয় ঔষধ (e.g Ramipril,Enalapril) উচ্চ রক্তচাপ সহ হৃদরোগ MI (myocardial infarctio) তে বহুল ব্যবহৃত হলেও যেহেতু এ জাতীয় ঔষুধ ব্যবহারে শুকনো কফ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সে ক্ষেত্রে ARB (Angiotensin-II receptor blocker) -( e.g- Losartan, Valsartan) উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঔষধ।

অনেক সময় একটি ঔষুধের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ কমানো সম্ভব না হলে, সে ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক ঔষুধের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য সমস্যা, যেমন Angina, Myocardial infarction সহ অন্যান্য সম্পৃক্ত রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই সে ক্ষেত্রে একজনের ঔষুধের মাধ্যমে অন্য জনের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়, বরং এতে মারাত্মক ক্ষতির কারন হতে পারে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রেসারের ঔষুধ খাবেন, নিজে নিজে ঔষুধ খাবেন না।

 

আরও পড়ুনঃ >> 2-Step Verification চালু করে হ্যাকিং থেকে সুরক্ষিত থাকুন

 

আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন ( বিডি টেক পয়েন্ট ) এর সাথে । যুক্ত হতে – এখানে ক্লিক করুন

আজ এই পর্যন্তই ফিরে আসব আগামী কোনো পর্বে । ততক্ষন পর্যন্ত ভালো থাকবেন আল্লাহ্‌ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x